
ইঞ্জিনিয়ার্স পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট
পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট হলো কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রদানের একটি বিশেষায়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যেখানে মূলত তাত্ত্বিক শিক্ষার চেয়ে বাস্তবমুখী এবং হাতে-কলমে কর্মমুখী শিক্ষার ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়। এসএসসি (SSC) বা সমমানের পরীক্ষা পাস করার পর শিক্ষার্থীরা এখানে ৪ বছর মেয়াদি 'ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং' কোর্সে ভর্তি হতে পারেন। এই শিক্ষা ব্যবস্থা বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (BTEB) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হয়।
কোর্সের গঠন ও শিক্ষাক্রম
সময়সীমা: এই কোর্সটি মোট ৪ বছর মেয়াদি হয়ে থাকে।
সেমিস্টার ব্যবস্থা: পুরো ৪ বছরকে মোট ৮টি সেমিস্টারে ভাগ করা হয়।
ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং: শেষ সেমিস্টারে (৮ম পর্বে) শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ভালো মানের প্রতিষ্ঠানে হাতে-কলমে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং বা ইন্টার্নশিপ করতে হয়।
প্রধান টেকনোলজি বা বিভাগসমূহ
পলিটেকনিকে প্রচলিত সাধারণ শিক্ষার মতো "সাবজেক্ট" না বলে এগুলোকে "টেকনোলজি" বলা হয়। এর মধ্যে জনপ্রিয় কয়েকটি হলো:
১। সিভিল টেকনোলজি (Civil Technology)
২। ইলেকট্রিক্যাল টেকনোলজি (Electrical Technology)
৩। কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (Computer Science & Engineering)
৪। ডিপ্লামা-ইন-টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং (Diploma-in-Textile Engineering)
পলিটেকনিক শিক্ষার সুবিধা ও ক্যারিয়ার
দ্রুত কর্মসংস্থান: এই কোর্সে প্র্যাকটিক্যাল বা ল্যাব ওয়ার্ক বেশি থাকায় শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করেই দ্রুত চাকরিতে প্রবেশ করতে পারেন।
গ্রেড: কোর্স সম্পন্ন করার পর শিক্ষার্থীরা 'ডিপ্লোমা প্রকৌশলী' বা 'উপ-সহকারী প্রকৌশলী' (Sub-Assistant Engineer) হিসেবে স্বীকৃতি পান। সরকারি চাকরিতে তারা ১০ম গ্রেডে (২য় শ্রেণীর কর্মকর্তা) নিয়োগ পান।
উচ্চশিক্ষার সুযোগ: ডিপ্লোমা শেষ করে শিক্ষার্থীরা সরাসরি ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (DUET) বা বিভিন্ন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে বি.এসসি (B.Sc in Engineering) -এ ভর্তি হতে পারেন।